দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সাবেক সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতারা তাকে আবার দলের সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করে তার নেতৃত্বেই ১৫তম সাধারণ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে দলটির একাংশ তাকে আর সভাপতি হিসেবে চায় না।
নেপালের সুপ্রিম কোর্ট গত ১৭ এপ্রিলের রায় পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়ার পর দেউবা-ঘনিষ্ঠ শিবির এই প্রস্তাব সামনে এনেছে। ওই রায়ে গগন থাপার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস কমিটিকে দলের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
এখন দেউবা-সমর্থক নেতারা বলছেন, সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে- সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা অথবা দেউবার নেতৃত্বে সাধারণ সম্মেলন আয়োজন করা।
দেউবার ঘনিষ্ঠ নেতা প্রকাশ শরণ মহাত বলেন, আমরা হয় আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারি, অথবা ১৪তম সাধারণ সম্মেলনে শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে গ্রহণ করে সাধারণ সম্মেলনের দিকে এগোতে পারি।
তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই ১৫তম সাধারণ সম্মেলন দেউবার নেতৃত্বেই হওয়া উচিত। বিশেষ সাধারণ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটিকে তিনি একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মহাত আরও বলেন, আদালত যেহেতু আগের রায় পুনর্বিবেচনায় সম্মত হয়েছে, তাই অপর পক্ষ যদি দেউবার নেতৃত্বে সাধারণ সম্মেলন করতে রাজি থাকে, তাহলে চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। এর মধ্যেই দলের ঐক্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
দেউবার নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে একত্র করা সহজ হবে বলেও দাবি করেন মহাত। তার ভাষায়, দেউবার নেতৃত্বে সবাই একসঙ্গে আসতে পারবেন এবং কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা কোণঠাসা করা হবে না।
পাঁচ মাস পর দেশে ফিরলেন দেউবা:
পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দুই মেয়াদে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি দেউবা প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নেপালে ফিরেছেন।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি কাঠমান্ডুর চুন্ডেভিতে তার সমর্থক গোষ্ঠীর যোগাযোগ কার্যালয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। তাদের অনুরোধে দেউবা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজতান্ত্রিক পঞ্চায়েত আমল, রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সরাসরি শাসন কিংবা বর্তমান রাস্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দেউবা প্রশ্ন করেন, রাজা জ্ঞানেন্দ্র পারেননি; এখানে আর কেউ কি তা করতে পারবেন?
চুন্ডেভিতে যাওয়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেউবা কংগ্রেসের ভেতরের মতবিরোধ ও অসন্তোষের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। দেশের প্রধান গণতান্ত্রিক দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটারদের দলের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে সম্মান করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
দেউবা আরও বলেন, কংগ্রেসের রাজনীতিতে তরুণ নেতাদের সামনে এগিয়ে আসা উচিত। তবে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের অযোগ্য বা মূল্যহীন হিসেবে উপস্থাপন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কোনো নেতাকে দলীয় দায়িত্বের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
কেএম